টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগনকে বিভ্রান্ত করা এবং তরুনদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ফেডারেল মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশটির একাধিক অঙ্গরাজ্যে মামলাটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, কোম্পানিটি তাদের প্লাটফর্মের ‘উল্লেখযোগ্য বিপদগুলো’ লুকিয়ে রেখে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলতে আসক্তিমূলক ফিচার ব্যবহার করেছে। এছাড়া মেটা ‘প্রতারনামূলক’ আচরনে জড়িত হয়ে ভোক্তা সুরক্ষা আইন ভঙ্গ করেছে।
মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়েছে, ১৩ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের তথ্য সংগ্রহ করে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক আইন চিল্ড্রেন’স অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট ভঙ্গ করেছে।
মেটার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় ৩৩ জন অ্যাটর্নী জেনারেল স্বাক্ষর করেছেন। এই অ্যাটর্নী জেনারেলদের একজন জেনারেল লেটিয়া জেমস বলেছেন, ‘মেটাসহ সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো জাতীয় যুব মানসিক স্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখছে। তাদেরকে এজন্য অবশ্যই দায় স্বীকার করতে হবে।’
মামলাটি প্রসঙ্গে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে মেটা। কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘কিশোরদের অনলাইনে ইতিবাচক ও নিরাপদ অভিজ্ঞতা দেয়ার বিষয়ে’ অ্যাটর্নিদের কাছে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। কিশোর ও তাদের পরিবারকে সহায়তা করতে এরইমধ্যে ৩০টিরও বেশি টুলের প্রচলন করা হয়েছে। কিশোরদের ব্যবহার করা অ্যাপগুলো তাদের উপযোগি করে তুলতে সংশ্লিষ্ট শিল্পের সব কোম্পানির সাথে আমরা ভালোভাবে কাজ করা স্বত্তে¡ও অ্যাটর্নী জেনারেলরা এই পথ অবলম্বন করলেন। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই হতাশার।
এদিকে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে মেটাসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন পরিবার, তরুন এবং স্কুল ডিসট্রিকগুলো শত শত মামলা দায়ের করেছে। দীর্ঘ সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে তা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে তা অনেক গবেষণাতেই পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য মেটার কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করছে এবং ক্ষতিকর চর্চাগুলো বন্ধ করতে বলছে।
বিবিসি/আরএপি
from টেক শহর https://ift.tt/gyeT2JY