টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত সপ্তাহে গুগলের উন্মোচিত নতুন স্মার্টফোন পিক্সেল ৮ এবং পিক্সেল ৮ প্রো তেও এআই চালিত ফিচার রয়েছে; যা দিয়ে ছবিতে মানুষের মুখের অভিব্যক্তি পরিবর্তন করা যাবে। তবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি ব্যাপকহারে ম্যানুপুলেশন করা হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে স্মার্টফোনের যুগে ছবি আরো সুন্দর করতে ডিজিটাল এডিট খুবই সাধারন বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন স্মার্টফোনে নতুন যুক্ত হয়েছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) চালিত বিভিন্ন ফিচার।
আমরা জানি গ্রুপ ছবিতে দেখা যায় কেউ হয়তো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নেই আবার কোন একজন হাসছে না। এ অবস্থায় গুগলের নতুন ফোনগুলো মেশিন লার্নিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আগের অভিব্যক্তি থেকে মিলিয়ে ছবিতে হাসি যোগ করে দিবে। গুগল একে বলছে বেস্ট টেক।
এছাড়াও এ ফোন দিয়ে ছবি থেকে অপ্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মুছতে , সরাতে এবং পুনরায় আকার দিতে সাহায্য করে। একে বলা হয় ম্যাজিক লার্নিং। এ কাজে ডীপ লার্নিং নামে একটি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলগারিদম ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তিটি অন্যান্য লাখ লাখ ছবি থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ব্যবহার করে আশেপাশের পিক্সেলগুলি বিশ্লেষণ করে নিজেই বুঝে নেয় কোন ফাঁকা স্থান পূরণ করতে হবে। এডিটের জন্য ডিভাইসে তোলা ছবিই হতে হবে এমন নয়; পিক্সেল ৮ প্রোতে গুগল ফটোস লাইব্রেরির যে কোন ছবিতেই এই ম্যাজিক এডিটর অথবা বেস্ট টেক প্রয়োগ করা যাবে।
বিশেষজ্ঞ ও পর্যালোকরা গুগলের এই নতুন এআই প্রযুক্তিকে বেশ সংশয়ের চোখে দেখছেন। তারা বলছেন, এ প্রযুক্তির ফলে অনলাইন কনটেন্টের ওপর মানুষের ভঙ্গুর বিশ্বাস আরো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
ফটোগ্রাফার এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসের সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রভাষক অ্যান্ড্রো পিয়ারসল বলছেন, এআই ম্যানুপুলেশন এখন হুমকির সম্মুখিন। তিনি বলেন, যারা পেশাদারি দিক থেকে এআই ব্যবহার করে তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝূঁকি ছিলো। তবে এখন সবার ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় আনতে হবে। আপনার জন্য এটি চিন্তার বিষয় হচ্ছে ছবি উঠানোর পর ছবি থেকে যে কোন কিছু মুহুর্তেই মুছে ফেলা যাবে। আমি মনে করি আমরা একটি মিথ্যা পৃথিবীর জালে জড়িয়ে যাচ্ছি।
গুগলের নতুন ফোনের ক্যামেরার মান এবং সফটওয়্যার রীতিমতো স্যামসাং, অ্যাপল এবং অন্যান্য কোম্পানির সাথে প্রতি›দ্ব›দ্বীতা করছে। বিক্রির দিক থেকে চিন্তা করলে এই এআই ফিচারগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখে। এমনকি প্রযুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী পর্যালোকরাও ক্যামেরার গুনগতমানের প্রশংসা করেছেন।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের গ্রাফিকস অ্যান্ড ডিসপ্লে বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রাফাল ম্যানটিউক বলেছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে স্মার্টফোনে এআইর ব্যবহার মানে ছবিগুলো আর কোনভাবেই বাস্তবের মতো দেখতে হবে না। মানুষ সত্যিটাকে ধরে রাখতে চায় না। তারা চায় সুন্দর সুন্দর ছবি। তবে স্মার্টফোনে ছবি মানে হচ্ছে ভালো কোন ছবি তৈরি হওয়া তবে বাস্তবসম্মত নয়।
স্মার্টফোনের সীমাবদ্ধতাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ছবিতে অনুপস্থিত বিষয় পূরণ করতে মেশিন লার্নিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা। এই মেশিন লার্নিং জুম, ছবিতে কম আলো এমন সবকিছুই উন্নত করা যায়।
ছবি ম্যানুপুলেশন করা নতুন কোন ঘটনা নয়। অনেক আগে থেকেই এমনটা ঘটে আসছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে বাস্তব ছবি পরিবর্তন করে দেয় তেমনটি নয়। ডিপ মেশিন লার্নিং এলগরিদম ব্যবহার করে ছবির মান উন্নত করার জন্য চলতি বছরের শুরুতে স্যামসাংকে নিয়েও সমালোচনা হয়।
বিবিসি/আরএপি
from টেক শহর https://ift.tt/dNrtLbq