অডিটের পাওনা ইস্যু, ব্যান্ডউইথ ক্যাপিংয়ে পড়তে পারে বাংলালিংক

আল-আমীন দেওয়ান : অডিট আপত্তির পাওনা আদায়ে বাংলালিংকের প্রতি আর নমনীয় মনোভাবে থাকছে না বিটিআরসি।

বাংলালিংককে চলতি সপ্তাহেই ১০ দিনের সময় দিয়ে মূল টাকা পরিশোধে চিঠি দিয়েছে বিটিআরসি। আর এরমধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেয়াসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে বলছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

এছাড়া এই টাকা পরিশোধে দেরি করায় নতুন করে ৬০ লাখ টাকার মতো লেট ফিও যোগ হয়েছে । অপারেটরটিকে এখন সেই টাকাও দিতে হবে।

বাংলালিংকের কাছে অডিট আপত্তিতে মোট পাওনা দাবি ৮২৩ কোটি ৫ লাখ ৬ হাজার ১৫৫ টাকা। এরমধ্যে বিটিআরসির পাওনা ৮১১ কোটি ৩১ লাখ ৫৬ হাজার ১৭৩ টাকা। যেখানে মূল পাওনা হলো ৩৮০ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ১১২ টাকা । বাকি ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ২১ টাকা হলো লেট ফি ও ইন্টারেস্ট।

বিটিআরসির কাছে করা বাংলালিংকের আবেদন অনুযায়ী লেট ফি ও ইন্টারেস্টের টাকায় পুরো ছাড় পেলে তারা মোট ৪২৭ কোটি ৭৩ লাখ ২৩ হাজার ৮১৯ টাকা ( ৩৮০ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ১১২ টাকা মূল এবং ৪৭ কোটি ১৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা অন্যান্য ফি) পরিশোধ করতে চায়।

ইতোমধ্যে কয়েকধাপে ৯৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে অপারেটরটি।

নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বলছে, তারা অপারেটরটির যৌক্তিক সব আবদারই বিবেচনা করেছেন। পাওনা পরিশোধের নোটিসের পরও বাংলালিংকের সঙ্গে তারা আলোচনা চালিয়েছেন। অপারেটরটি মূল টাকা পরিশোধ করে লেট ফি ও ইন্টারেস্টের টাকায় ছাড় চেয়ে আসছিল। সেখানে তাদের মূল টাকা পরিশোধ করার পর লেট ফি ও ইন্টারেস্টের টাকা নিয়ে আলোচনা চালাতে বলা হয়েছে। এখন তারা মূল টাকা দিতেই সময়ক্ষেপণ করছে।

বাংলালিংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অডিট আপত্তির বিপুল পাওনা পরিশোধে বাংলালিংকের আপত্তির জায়গা ‘লেট ফি’। তারা নিজেরাও মূল টাকা দিয়ে দিতে চান। কিন্তু মূল টাকা দিলে যে লেট ফি ও ইন্টারেস্টের টাকায় তাদের ছাড় দেয়া হবে সেই নিশ্চয়তাটাই চান তারা।

সম্প্রতি হওয়া বিটিআরসির সঙ্গে বৈঠকে বাংলালিংক মোবাইল অপারেটরদের টুজি, থ্রিজি এবং ফোরজি গাইডলাইন-লাইসেন্সের প্রসঙ্গ তোলে। অপারেটরটি বলেছে, লাইসেন্স অনুযায়ী বিলম্ব ফি আদায় করা যাবে নির্ধারিত তারিখের ৬০ দিন পর্যন্ত সময়ের। আর এই বিষয়টি বিবেচনা করতে বলছে বাংলালিংক।

অপারেটরটির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই এগিয়েছেন। তারা কোনো মামলায় যাননি। বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তারা যৌক্তিকভাবে একটা সমাধান আশা করেন।

বিটিআরসির কমিশনার (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) ড. মুসফিক মান্নান চৌধুরী টেকশহর ডটকমকে বলেন, রাষ্ট্রের পাওনা নিয়ে অপারেটরটি এখন সময়ক্ষেপণ করছে। আমরা তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করেছি, তারা মূল টাকা দিতে চেয়েছে সেটা দিয়ে দিতে বলা হয়ছে। মূল টাকা দেয়ার পর লেট ফি নিয়ে আলোচনার দরজা আমরা খোলা রেখেছি। লেট ফি নিয়ে তাদের আলোচনার প্রস্তাবও আমরা বিবেচনা করেছি। কিন্তু যদি মূল টাকা দিতে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করা হয় সেটি তো গ্রহণযোগ্য নয়।

‘মূল টাকা পরিশোধে এবার তাদের ১০ দিনের সময় দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে ব্যান্ডউইথ ক্যাপিংসহ আইন অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, বলেন তিনি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকশহর ডটকমকে জানান, রাষ্ট্রের পাওনা পরিশোধ না করলে বিটিআরসি ব্যান্ডউইথ ক্যাপিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে। বাংলালিংককে সুযোগ দেয়া হয়েছিল, তারা মূল টাকা পরিশোধ করে লেট ফি নিয়ে আলোচনা করে একটা যৌক্তিক সমাধানে আসতে পারতো।

‘সরকারের দিক হতে তো আন্তরিকতা দেখানো হয়েছে। এখন মূল টাকা পরিশোধ করে তাদেরও আন্তরিকতাটা দেখাতে হবে, যেটা তারা বলছে। যাইহোক মূল টাকা তো পরিশোধ করতেই হবে, তা লেট ফিতে ছাড় হোক বা না হোক’ বলেন মন্ত্রী।

বাংলালিংক যদি অন্য দুই অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির মতো আদালতে যায়, সে প্রসঙ্গে তোলা হলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, আদালতে যাওয়ার সবার অধিকার আছে। তখন আমরাও বিষয়টি আদালতেই দেখবো। তবে তখন পুরোটাই আদালতের এখতিয়ার হবে, এখন যেমন আমরা নমনীয় মনোভাবে সেটি থাকবে না।

এর আগে অডিট আপত্তির পাওনা ইস্যুতে গ্রামীণফোনের মোট ব্যবহার করা ব্যান্ডউইথের ৩০ শতাংশের ওপর ক্যাপিং আরোপ করেছিল কমিশন। পরে অপারেটরটির এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি।



from টেক শহর https://ift.tt/ZhOevM3
নবীনতর পূর্বতন