টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভালোবাসা একটি অধরা, আসক্তিমূলক , জটিল আবেগ। শুধুমাত্র মানুষের মধ্যেই এ ধরনের আবেগের দেখা মিলে। ভালোবাসায় সন্দেহও থাকে। তবে বিষয়টি কেমন হবে যদি ভালোবাসায় কোন সন্দেহ বা অমূলক চিন্তা না আসে?
এ ধরনের ভাবনার ওপর ভর করেই গ্রিক পরিচালক ক্রিস্টোস নিকো তৈরি করেছেন চলচ্ছিত্র ফিঙ্গারনেইলস। ভালোবাসার মতো হৃদয়ঘটিত ব্যাপারে মেশিনের ওপর কতোটা নির্ভর করা যায় তিনি এই চলচ্চিত্রে তা তুলে ধরেছেন।
ফিঙ্গারনেইলস সিনেমায় অ্যানার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসি বাকলে। অ্যানার সাথে রায়ানের (জেরমি অ্যালেন হোয়াইট) দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। একটি বিতর্কিত নতুন কম্পিউটার পরীক্ষায় দেখা যায় তাদের মধ্যকার সম্পর্ক শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কিন্তু এরপরেও কিছু অস্বস্তির কারণে অ্যানা পরীক্ষাটি সম্পন্ন করা প্রতিষ্ঠান লাভ ইনস্টিটিউটে চাকুরির আবেদন করেন। এ প্রতিষ্ঠানেই রায়ানের সাথে সম্পর্ক নিয়ে পরীক্ষা করিয়েছিলেন তিনি। হৃদয়ের সম্পর্কের বিষয়ে কি সত্যি মেশিনের ওপর নির্ভর করা যায়?
পরিচালক নিকো বলেছেন, বর্তমান আধুনিক বিশ্বে মানুষ যেভাবে আরেকজনের সাথে দেখা ও ডেট করে সেখান থেকেই তার এই সিনেমার ধারণাটি এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি আমার আশেপাশের অনেকে এসব ডেটিং অ্যাপসের ওপর নির্ভর করে। ডিভাইসের ডানে বামে আঙ্গুল চালিয়ে তারা মনের মতো সঙ্গী খোঁজে। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের বিষয়ে তারা অলগারিদমকে সিদ্ধান্ত নিতে দেয়। তরুন প্রজন্ম এসব অনলাইন অ্যাপসে বেশি আসক্ত।
৩৯ বছর বয়সী এই নিকো আরো বলেন, ‘আমার সব সম্পর্ক মেয়েদের সাথে বিশেষ করে আমি যখন এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেছি। কাজের মাধ্যমেই তাদের সাথে পরিচয়। আমি অনেক তরুনদের সাথে কথা বলেছি তারা আমাকে বলেছে , ‘আমরা সময় নষ্ট করতে চাই না। আমরা সব উত্তর জানতে চাই। শুরু থেকেই জানতে চাই এই ব্যক্তির সাথে মিলবে কিনা।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ভালোবাসা একটি রসায়ন। এই শক্তি তখনই পাওয়া যায় যখন অন্যকে সামনাসামনি দেখা যায়। এটি পর্দায় নয়।’
তবে এ ধরনের বিষয়গুলো আধুনিক প্রযুক্তি আসার আগে দেখা যেতো। নিকোর পক্ষ থেকে এটি ছিলো ইচ্ছাকৃত পছন্দ। নিকো বলেন, ‘সর্বোপরি আমরা সময়ের উর্ধ্বে কিছু করতে চেয়েছি। কারণ ভালোবাসা নিরবধি। আবার একইসঙ্গে আমি যা তৈরি করতে চেয়েছি তা যেন অতিসাম্প্রতিক সময়ের সাথে ছুঁয়ে যায়। সিনেমাটিতে শেষ রেফারেন্স হলো নিটিং হিল কারণ একমাত্র হাফ গ্রান্টই জানেন ভালোবাসা কি?’
তিনি আরো বলেন, আমরা সিনেমাটিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সেলফোন এড়িয়ে গিয়েছি। কারণ আমরা বুঝতে পেরেছি বর্তমানে সেল ফোনে প্রেম মানেই ডেটিং অ্যাপস। আমরা ভাবতে চেয়েছিলাম যদি শুধুমাত্র একটি ডিভাইস থাকে যা কোনভাবে সমস্ত প্রযুক্তির প্রতীক হয়ে উঠে এবং সবাই যদি এর কাছেই উত্তর জানতে চায় তাহলে বিষয়টি কেমন হবে? এটি আমার জন্য রূপক। অবশ্যই আপনি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করবেন। তবে মনে রাখতে হবে আপনি যখন প্রেমে পড়বেন তখন খানিকটা অস্বস্তিও থাকবে।
চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলো ভালোবাসার জন্য কিছু না কিছু আত্মত্যাগ করেছে। তারা এই ব্যথা অনুভব করেছে কারণ আমরা আঙ্গুল হারানোর সাথে ভালোবাসা হারানোর ব্যথা একত্র করতে চেয়েছি। যেসব জুটি লাভ ইনস্টিটিউটে গিয়েছে তাদেকে ফিঙ্গারনেইল টেস্টের মতো বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। জুটি হিসেবে তারা কিভাবে একসঙ্গে কাজ করে আমরা তা দেখতে চেয়েছি। আমরা দেখেছি অনেকেই কাপল থেরাপিতে যায়। কাপল থেরাপিস্টরা যা বলে আমরা তা অনুসরন করেছি এবং সিনেমাটিতে এ ধরনেরই কিছু দেখাতে চেয়েছি।
বিবিসি/আরএপি
from টেক শহর https://ift.tt/IyowcEZ