টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: গোটা বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয় ব্রিটিশ গানের ব্যান্ড বিটলস ষাট বছরেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। এই দলটির চার সদস্যের দুজন এখন প্রয়াত। এই প্রয়াত দুইজনের একজন জন লেননের কন্ঠস্বর এবং হ্যারিসনের গিটারের সুর ব্যবহার করে নতুন গান প্রকাশ করতে যাচ্ছে বিটলস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে গানটি তৈরি করা হয়েছে। নভেম্বরের ২ তারিখ গানটি প্রকাশ হবে।
‘নাও অ্যান্ড দেন’ নামের ট্র্যাকটি আগামি বৃহস্পতিবার মুক্তি পাবে। ১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডে বিটলসের সর্বপ্রথম একক ট্র্যাক ‘লাভ মি ডু’ এর পরবর্তী অংশ হিসেবে গানটি প্রকাশ হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রয়াত জন লেননের লেখা একই ব্যাচের অপ্রকাশিত ডেমো থেকে নেয়া হয়েছে।
নব্বুইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত ‘ফ্রি এজ এ বার্ড’ এবং ‘রিয়েল লাভ’ গানদুটি নির্মাণে এই ডেমোগুলো ব্যবহার করেছিলেন জন লেননের সাবেক ব্যান্ডমেটরা। একই সেশনে ‘নাও অ্যান্ড দেন’ গানটি নির্মাণে কাজ করেছিলেন পল ম্যাককার্টনি, রিঙ্গো স্টার এবং জর্জ হ্যারিসন। তবে এখানে কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা শেষ হয়নি।
পরিচালক পিটার জ্যাকসন এআইয়ের সাহায্যে সত্তরের দশকের শেষের দিকে ব্যবহৃত পিয়ানো থেকে লেননের আসল কণ্ঠ ‘বিচ্ছিন্ন’ করে এ সমস্যার সমাধান করেছেন। অনেক পরিস্কার ভোকালের সুবাদে গত বছর ম্যাককার্টনি এবং স্টার এই ট্র্যাকটি সম্পন্ন করতে পারেন। বিটলস ব্যান্ডের জীবিত সদস্যরা গানটি তৈরিতে অনেক পরিশ্রম করেছেন। নতুন গানটিতে গিটারের যে সুর ব্যবহার করা হয়েছে তা প্রায় তিন দশক আগে হ্যারিসন রেকর্ড করেছিলেন। ২০০১ সালে প্রয়াত হওয়া হ্যারিসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ড্রামের নতুন অংশটি করেছেন স্টার, ম্যাককার্টনির বেস, পিয়ানো এবং একটি স্লাইড গিটারের সলো যোগ করা হয়েছে। ব্যাকআপ গেয়েছেন ম্যাককার্টনি এবং স্টার।
বিটলসের প্রয়াত প্রযোজক জর্জ মার্টিনের ছেলে গিলস মার্টিনের সহায়তায় লেখা একটি স্ট্রিং অ্যারেঞ্জমেন্টও যুক্ত করেছেন ম্যাককার্টনি। এটিও পর্যাপ্ত না হলে ‘হিয়ার, দিয়ার অ্যান্ড এভরিহোয়্যার’, ‘এলিনর রিগবাই’ এবং ‘বিকজ’ বিটলসের এই রেকর্ড থেকে ভোকাল নেয়া হতো।
এক ঘোষণায় ম্যাককার্টনি বলেন, ‘সেখানে জনের কণ্ঠস্বর খুবই পরিস্কার ছিলো। যা খুবই আবেগপ্রবন। এটি সত্যিকারের বিটলস রেকর্ডিং। ২০২৩ সালে এসেও এটি বিটলস মিউজিক কাজ করছে এবং তারা একটি নতুন গান প্রকাশ করবে যা কেউ আগে শোনেনি। এটি খুবই চমকপ্রদ একটি ব্যাপার।’
প্রয়াত হ্যারিসনের স্ত্রী অলিভিয়া বলেছেন, তার নব্বুইয়ের দশকের কথা মনে পড়ছে যখন প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ব্যান্ডের মান অনুসারে গান প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিলো। তিনি যদি এখনো বেঁচে থাকতেন তাহলে পল ও রিঙ্গোর সাথে যোগ দিতেন। গানটি প্রকাশ হওয়ার আগের দিন বুধবার নতুন রেকর্ডিংয়ের ঘটনাগুলো নিয়ে ১২ মিনিটের একটি চলচ্চিত্র দেখানো হবে।
ফরচুন/আরএপি
from টেক শহর https://ift.tt/4J9LKrX